ক্রিকেটে “সুপার ওভার” — শব্দটি কানে শুনলেই একজন ক্রিকেটপ্রেমির বেড়ে যায় উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ। ক্রিকেটম্যাচে যখন দুই দল সমান রান করে খেলা শেষ হয়ে থাকে তখন ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করতেই ক্রিকেটে সুপার ওভারের আবিষ্কার হয়, ফলাফল না হওয়া ম্যাচে জয়-পরাজয় নির্ধারণের জন্য আয়োজন করা হয়ে থাকে এই বিশেষ টাই-ব্রেকার ওভার। আধুনিক ক্রিকেটে ধীরে ধীরে যা হয়ে উঠেছে সমতার
নিষ্পত্তির সবচেয়ে জনপ্রিয় নিয়ম।
এবার তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ক্রিকেটে সুপার ওভার কী?
ক্রিকেটের আইনে সুপার ওভার হলো ম্যাচে জয়-পরাজয় নির্ধারণের জন্য বিশেষ টাই-ব্রেকার
পদ্ধতি । যার মাধ্যমে ম্যাচে ২ দলের রান সমতা হলে অতিরিক্ত একটি ওভার, অর্থাৎ ৬ বলের
একটি ইনিংস, যেখানে প্রতিটি দল ব্যাটিং ও বোলিং করার সুযোগ পায়। যে দল ৬ বলের এই
ওভারে বেশি রান সংগ্রহ করবে, সেই দলকেই ম্যাচের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এটি এক ওভারের
এলিমিনেটর নামেও পরিচিত ।
সহজভাবে বলতে গেলে যখন কোনো ম্যাচের নিয়মিত খেলায় উভয় দল সমান সংখ্যক রান করে, অর্থাৎ ম্যাচটি টাই হয়ে যায়, তখনই সুপার ওভার আয়োজন করা হয়। এই ওভারে প্রতিটি দল তিনজন ব্যাটসম্যান এবং একজন বোলার ব্যবহার করতে পারে।
একজন ক্রিকেট প্রেমী হিসেবে আপনি কি জানেন ক্রিকেটে কখন সুপার ওভার চালু হয়?
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ২০০৮ সালে সুপার ওভার নিয়ম চালু করে
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। এটি মূলত টি-২০ ক্রিকেটে টাই হওয়া ম্যাচের
ফলাফল নির্ধারণের জন্য আনা হয়। এর আগে ম্যাচে সমতা হলে “বোল-আউট” পদ্ধতিতে ফল নির্ধারণ
করা হতো। কিন্তু বর্তমানে শুধু টি-২০ ম্যাচে নয় বরং ৫০ ওভারের ম্যাচেও চালু রয়েছে ।
আপনাদের মনে এবার প্রশ্ন আসতে পারে এক ম্যাচে কয়বার সুপার ওভার হতে পারে তাই তো?
চিন্তার কোন কারন নেই আপনার এই প্রশ্নের উত্তর আমি এখানেই দিয়ে দিচ্ছি - ইতিপূর্বেই আমি আমার লেখার মাধ্যমে জানিয়েছি - যখন কোনো ম্যাচের নিয়মিত খেলায় উভয় দল সমান সংখ্যক রান করে, অর্থাৎ ম্যাচটি টাই হয়ে যায়, তখনই সুপার ওভার আয়োজন করা হয়। এবার
তাহলে জেনে নেয়া যাক এক ম্যাচে কয়বার সুপার ওভার হতে পারে- সাধারণত একবার সুপার ওভারেই ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়ে যায়। তবে যদি সুপার ওভারেও সমতা থাকে, তাহলে দ্বিতীয় বা পরবর্তী সুপার ওভারও অনুষ্ঠিত হতে পারে, যতক্ষণ পর্যন্ত না কোনো দল এগিয়ে যায়। এই নিয়মটি বিশেষভাবে প্রচলিত আন্তর্জাতিক টি-২০ এবং বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে।
আপনাদের কি সুপার ওভারের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ হওয়া কোনো ম্যাচের কথা মনে আছে ?
মনে না থাকলে ২০১৯ সালের ঐতিহাসিক বা ইতিহাসে স্মরণীয় সুপার ওভারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া ম্যাচের কথা মনে করে দেখুন তো !
২০১৯ সালের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় সুপার ওভার হিসেবে স্থান পেয়েছে। যেখানে ম্যাচ ও সুপার ওভার — উভয়েই সমান রান করার পর “বাউন্ডারি কাউন্ট” নিয়মে ইংল্যান্ডকে চ্যাম্পিয়ন
ঘোষণা করা হয়, যা নিয়ে পরবর্তীতে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর পর থেকে এক ম্যাচে একের অধিক সুপার ওভার সংগঠিত হওয়ার প্রচলন চালু হয়।
সম্প্রতি ২১ শে অক্টোবর ২০২৫ সালে বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিসের মধ্যকার ২য় ওয়ানডে ম্যাচেও সুপার ওভার সংগঠিত হয় এবং সুপার অভারে ওয়েস্ট ইন্ডিস দল বাংলাদেশ দলকে ১ রানে পরাজিত করে ম্যাচে জয়লাভ করে।
আশাকরি এই লেখাটি পড়ার পর সুপার ওভার সম্পর্কিত আপনাদের মনে থাকা অনেক যদি কিন্তুর সমাধান পাওয়া যাবে।
লেখক - ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাইফুল ইসলাম।
পাওয়ারপ্লে দ্বারা সীমিত ওভার ক্রিকেটে মাঠে ফিল্ডার স্থাপনের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতার নিয়মাবলিকে নির্দেশ করা হয়। ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লে এর ইতিহাস অনেক আগের। ১৯৭০ এর দশক জুড়েই ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতার বিবর্তন ঘটেছে, বিশেষ করে বিশ্ব সিরিজ.......
ক্রিকেট খেলায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিভিত্তিক আম্পায়ার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা পদ্ধতিই হচ্ছে ডিআরএস (ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম)। ডিআরএস এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে -অন-ফিল্ড আম্পায়ার কর্তৃক ব্যাটসম্যানের আউটের ক্ষেত্রে এককভাবে গৃহীত বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা করা......
একজন নতুন ক্রিকেটার অথবা একজন মনোযোগী ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে আপনাকে অবশ্যই ক্রিকেট খেলার ফিল্ডিং পজিশন সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতেই হবে।আপনাদেরকে জানিয়ে রাখা ভালো যে,ক্রিকেট খেলায় পুরো ফিল্ড কে দুইভাগে ভাগ...
ক্রিকেট খেলায় একজন বোলার বা প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় অন্য দলের খেলোয়াড় বা ব্যাটসম্যানকে পিচ বা মাঠ থেকে বের করার বৈধ নিয়মকে আউট বলে।ক্রিকেট খেলায় একজন ব্যাটসম্যানকে ১১ ভাবে আউট করা যায়। নিম্নে আউট গুলো সম্পর্কে জানানো হলোঃ- .........
আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন যে, স্পোর্টসের সাথে সাইন্সের একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ক্রিকেটও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ক্রিকেট ও সাইন্স একে অপরের পরিপূরক। আমরা লক্ষ্য করলেই দেখবো ক্রিকেটে সাইন্সের ( বায়ো- মেকানিক্স, পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন ফর্মুলা.......