আধুনিক ক্রিকেটে এক্সসাইটিং যে কয়টি বিষয় রয়েছে - " ফিল্ডার কর্তৃক ফিল্ডিং " করার বিষয়টি অন্যতম । ফিল্ডার কর্তৃক ডাইভ দিয়ে অসাধারণ ক্যাচ লুফে নেয়া, দুর্দান্ত ডিরেক্ট থ্রু করে ব্যাটারকে রান আউট করা , চোখ ধাঁধানো ফিল্ডিং করে বল তালু বন্দি করার দৃশ্য আধুনিক ক্রিকেটের এক্সসাইটমেন্ট অনেক অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফিল্ডার কর্তৃক একের পর এক দুর্দান্ত ফিল্ডিং যেকোনো ম্যাচের মোড় সেকেন্ডেই পাল্টে দিতে পারে।একমাত্র ফিল্ডারই পারে হেরে যাওয়া ম্যাচেও জয় ছিনিয়ে আনতে।একারনেই ক্রিকেটের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিপার্টমেন্টের নামই হল ফিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট
তাই প্রফেশনাল ফিল্ডারদের মতো একজন দক্ষ ও পারদর্শী ফিল্ডার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে আপনাকে অবশ্যই ফিল্ডিংয়ের বেসিক
শেখার পাশাপাশি ফিল্ডিং পজিশন সম্পর্কেও সঠিক ধারণা রাখতে হবে।কারন একজন ফিল্ডার হিসেবে আপনি যদি ফিল্ডিং পজিশনের নাম গুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা না রাখেন তাহলে আপনার পক্ষে খেলার মাঠে মনোযোগ সহকারে শতভাগ দিয়ে সঠিক পজিশনে ফিল্ডিং করা সম্ভব হবে না।তাছাড়া ক্রিকেট পাড়ায় প্রচলিত আছে যে," ক্রিকেট ইস অল এবাউট মেন্টাল গেইম "।
ক্রিকেটে যে যত বেশি মেন্টালি স্ট্রং তার জন্য ম্যাচের প্রতিকুল পরিস্থিতিতেও মেন্টাল
টাফনেস ফেস করা এবং নিজের নার্ভ ধরে
রাখা সহজ হয় অন্যথায় যারা অপেক্ষাকৃত কম মেন্টালি স্ট্রং তারা প্রতিকুল পরিস্থিতিতে
মেন্টাল টাফনেস ফেস করতে না পেরে এবং
নার্ভ ধরে রাখতে না পেরে অতিরিক্ত নার্ভাস হয়ে যাওয়ার কারনে ম্যাচে ভুল করে বসে,ম্যাচে
তাদের দ্বারা ক্যাচ অথবা ফিল্ডিং
মিস হয়ে থাকে কারন তারা খেলার মাঠে মনোযোগ সহকারে নিজেদের শতভাগ দিতে ব্যর্থ হয়।যারা
প্রতিনিয়তই ক্রিকেট খেলা দেখে থাকেন আপনারা সকলেই হয়তো দেখে থাকবেন ক্রিকেট খেলায় একজন
ফিল্ডারকে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নানান পজিশনে ফিল্ডিং করতে হয়ে থাকে।
টিম ক্যাপ্টেন অথবা টিমের কোচ একজন ফিল্ডারকে দলের প্রয়োজনে এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নানান পজিশনে ফিল্ডিং করতে বলে থাকেন। যেমন ধরুন শুরুতে একজন ফিল্ডারকে পয়েন্ট পজিশনে ফিল্ডিং করার জন্য বলা হলেও কিছুক্ষণ পরে তাকে ডিপ মিড-উইকেট অথবা লং-অন এ ফিল্ডিং করার জন্য বলা হতে পারে আবার কিছুক্ষণ পর ঐ একই ফিল্ডারকে ডিপ মিড-উইকেট-লংঅন থেকে লং-অফ অথবা স্কয়ার-লেগ পজিশনে ফিল্ডিং করার জন্য বলা হতে পারে।
এমতাবস্থায় যদি ঐ ক্রিকেটারের ফিল্ডিং পজিশন সম্পর্কে সঠিক ধারনা না থাকে তাহলে তার পক্ষে মাঠে শতভাগ মনোযোগী থেকে ফিল্ডিং করা সম্ভব হবেনা। ফিল্ডিং পজিশন সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় ক্যাপ্টেন তাকে এক পজিশনে ফিল্ডিং করতে বললে ঐ ক্রিকেটার অন্য পজিশনে ফিল্ডিং করতে পারে। ফলে টিম ক্যাপ্টেন/বোলার/অন্য ফিল্ডার ঐ ক্রিকেটারের উপর রেগে যেতে পারে যেহেতু সে সঠিক ফিল্ডিং পজিশনে ফিল্ডিং করতে পারছেনা।এতে করে ঐ ক্রিকেটারের দ্বারা নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়ে ফিল্ডিং করা সম্ভব তো হবেই নাহ বরং সে ধীরে ধীরে নার্ভাস হয়ে পড়বে এবং অতিরিক্ত নার্ভাস হওয়ার কারনে তার দ্বারা মিস ফিল্ডিং হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে।যার ফলে টিম ক্যাপ্টেন এবং টিম কোচ খেলার মাঠে ঐ ক্রিকেটারকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকবে।আর এমনটা বারবার হতে থাকলে ক্যাপ্টেন বাধ্য হয়ে ঐ ক্রিকেটার কে মাঠ থেকে উঠিয়ে নিয়ে তার পরিবর্তে অন্য আরেকজন ক্রিকেটারকে ফিল্ডিং করার জন্য মাঠে নামাবেন।
তাই একজন ক্রিকেটার হিসেবে আপনাকে ফিল্ডিংয়ের বেসিকগুলো শেখার পাশাপাশি ক্রিকেট মাঠের ফিল্ডিং পজিশনের নামগুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতে হবে। এর ফলে আপনি যখনই ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন তখনই ফিল্ডিং এ শতভাগ মনোযোগ সহকারে ফিল্ডিং করা আপনার পক্ষে সম্ভব হবে। আপনি যদি আমার পূর্বের আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন আপনি মনে করতে পারবেন যে, আমার পূর্বের একটি আর্টিকেলে আমি বলেছিলাম, আমাদের হিউম্যান ব্রেইন যে বিষয়টি আগে থেকে জানে সে বিষয়ে ঠিকঠাকভাবে রেসপন্স করতে পারে।এখন তাহলে চলুন ক্রিকেট খেলার ফিল্ডারের ফিল্ডিং পজিশনের নামগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
আপনাদের সকলের সুবিধার্থে জানিয়ে রাখা ভালো যে, ক্রিকেট খেলায় পুরো ফিল্ড কে সাধারণত দুইভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে-
১.৩0 গজ অথবা 30 Yard Circle ২.বাউন্ডারি লাইন অথবা Boundary Line.
সেই সাথে ৩0 গজে যেই পজিশনের নাম পয়েন্ট (Point) বাউন্ডারি লাইনে সেই পজিশনের নাম ডিপ পয়েন্ট ( Deep Point ).অর্থাৎ
বাউন্ডারি লাইনের ফিল্ডিং পজিশনের নামের শুরুতে ডিপ (Deep) যুক্ত হয়ে থাকে।
যেমন:ডিপ মিড-উইকেট,ডিপ কাভার, ডিপ স্কয়ারলেগ ইত্যাদি।(Deep Mid-Wicket,Deep Cover,Deep Square-Leg)
অন্যদিকে ক্রিকেট খেলায় পুরো ফিল্ড কে দুই সাইডে ভাগ করা হয়ে থাকে ১. অফ সাইড(Off-Side) ২.অন সাইড(On-Side)।
অফ সাইডের ফিল্ডিং পজিশন গুলোর নাম হলো:- উইকেট-কিপার, স্লিপ,থার্ডম্যান, গ্যালী, পয়েন্ট, কাভার, এক্সট্রা-কাভার,মিড-অফ,
লং-অফ।(Wicket-Keeper, Slip, Third-man, Gully, Point, Cover, Extra-Cover, Mid-Off, Long-Off) এবং
অন সাইডের ফিল্ডিং পজিশন গুলোর নাম হলো:-ফাইন-লেগ,স্কয়ারলেগ,শর্টলেগ,মিড-উইকেট,কাউ কর্নার,মিড-অন,
লং-অন।(Fine-Leg,Square-Leg, Short-Leg,Mid-Wicket,Cow-Corner Mid-On, Long-On)
আশাকরি আজকের এই লেখাটির মাধ্যমে আপনারা ফিল্ডিংয়ের পজিশন সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারনা পেরেছেন যা কিনা আপনাদের কে ম্যাচে
কিছুটা হলেও কাজে দিবে ইনশাআল্লাহ।আপনাদের সকলের সুস্থতা কামনা করে আজকের মতো এখানেই শেষ করছি।এতক্ষণ সময় নিয়ে লেখাটি
পড়ার জন্য আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
লেখক - ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাইফুল ইসলাম।
পাওয়ারপ্লে দ্বারা সীমিত ওভার ক্রিকেটে মাঠে ফিল্ডার স্থাপনের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতার নিয়মাবলিকে নির্দেশ করা হয়। ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লে এর ইতিহাস অনেক আগের। ১৯৭০ এর দশক জুড়েই ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতার বিবর্তন ঘটেছে, বিশেষ করে বিশ্ব সিরিজ.......
ক্রিকেট খেলায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিভিত্তিক আম্পায়ার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা পদ্ধতিই হচ্ছে ডিআরএস(ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম)। ডিআরএস এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে -অন-ফিল্ড আম্পায়ার কর্তৃক ব্যাটসম্যানের আউটের ক্ষেত্রে এককভাবে গৃহীত বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা করা......
ক্রিকেট খেলায় একজন বোলার বা প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় অন্য দলের খেলোয়াড় বা ব্যাটসম্যানকে পিচ বা মাঠ থেকে বের করার বৈধ নিয়মকে আউট বলে।ক্রিকেট খেলায় একজন ব্যাটসম্যানকে ১১ ভাবে আউট করা যায়। নিম্নে আউট গুলো সম্পর্কে জানানো হলোঃ- .........
বরাবরই ডিআরএস(ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম)নিয়ে বিতর্কিত মনোভাব প্রকাশ পায়,কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া টেস্ট চ্যাম্পিয়ন খেলায়ও ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালি ডিআরএস এর‘ আম্পায়ার্স কল ’প্রসঙ্গে আপত্তি জানায় সেইসাথে.........
আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন যে, স্পোর্টসের সাথে সাইন্সের একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ক্রিকেটও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ক্রিকেট ও সাইন্স একে অপরের পরিপূরক। আমরা লক্ষ্য করলেই দেখবো ক্রিকেটে সাইন্সের ( বায়ো- মেকানিক্স, পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন ফর্মুলা.......